”যখন আত্মা প্রেম ও ঐক্যে পূর্ণ থাকে,
তখন সমস্ত শক্তি এক হয়ে যায়”
(রুমী)
Islam in Bengal
September 2020
যিকির হাউস বেকার ও উন্নতির জন্য একটি শিক্ষা কেন্দ্র। আমরা সুস্থতা, শান্তি এবং যিকিরের শক্তির মাধ্যমে জীবনে একটি বাস্তবিক পরিবর্তন এনে তুলি।
আমাদের সাথে যোগ দিন এবং অসীম ভালোবাসা ও অশুদ্ধতার বদলে গুনগ্রহীতার জগতে প্রবেশ করুন।
আমাদের সেবা সমূহ
আমরা যিকিরের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা প্রদান করি, যার মধ্যে রয়েছে: শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং মেডিটেশন, নৈতিক শিক্ষা, সুস্থতা কার্যক্রম, পরিবার ও সম্পর্কের উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা।
মেডিটেশন
বিশ্রাম ও শান্তির জন্য
মনের প্রশান্তি ও দ্বন্দ্ব মুক্তির জন্য মেডিটেশন।
মানবতা এবং সততা হলো মানুষের জীবনের দুটি সবচেয়ে মূল্যবান ও মহৎ গুণ, যা সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখে।
সততা কী?
• সত্যবাদিতা: সর্বদা সত্য কথা বলা এবং মিথ্যা বা প্রতারণা থেকে দূরে থাকা।
• দায়িত্ববোধ: নিজের কাজে সৎ থাকা, অন্যের হক নষ্ট না করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা।
• মর্যাদা: সৎ মানুষ সমাজে সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পায়।
মানবতা কী?
• সহমর্মিতা: অন্য মানুষের কষ্ট ও ব্যথা অনুভব করা এবং তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা।
• ভালোবাসা: জাত-পাত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দয়া দেখানো।
• সেবা: নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণ করা মানবতার মূল মন্ত্র।
মানবতা ও সততার সম্পর্ক
• সততা মানুষকে ভেতর থেকে পবিত্র করে, আর মানবতা সেই পবিত্রতাকে অন্যের কল্যাণে প্রকাশ করে।
• একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গঠনে এই দুটি গুণের চর্চা অপরিহার্য।
নৈতিক শিক্ষা
আধ্যাত্মিক সত্যের শিক্ষা প্রদান।
শিক্ষা, জ্ঞান ও গবেষণা—এই তিনটি উপাদান একটি দেশের অগ্রগতি, সভ্যতা এবং মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের মূল ভিত্তি। এরা একে অপরের পরিপূরক এবং একটি চক্রের মতো কাজ করে।
১. শিক্ষা (Education)
• ভিত্তি: শিক্ষা হলো মানুষের ভেতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার এবং জ্ঞান অর্জনের প্রাথমিক মাধ্যম।
• চরিত্র গঠন: এটি মানুষকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য শেখায় এবং মূল্যবোধ তৈরি করে।
• যোগ্যতা: প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে সমাজে টিকে থাকার এবং অবদান রাখার উপযোগী করে তোলে।
২. জ্ঞান (Knowledge)
• প্রয়োগ: শিক্ষা যখন মানুষের চিন্তা, চেতনা ও অভিজ্ঞতায় মিশে যায়, তখন তা জ্ঞানে রূপান্তরিত হয়।
• শক্তি: জ্ঞান মানুষকে অন্ধত্ব ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
• স্থায়িত্ব: তথ্য বা উপাত্ত ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু অনুধাবনকৃত জ্ঞান চিরস্থায়ী এবং এটি বিতরণে আরও বাড়ে।
৩. গবেষণা (Research)
• নতুনত্ব: অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নতুন সত্য, তথ্য বা প্রযুক্তি আবিষ্কার করার প্রক্রিয়াই হলো গবেষণা।
• সমস্যা সমাধান: চিকিৎসা, বিজ্ঞান, কৃষি বা সমাজের যেকোনো জটিল সমস্যার আধুনিক ও স্থায়ী সমাধান আসে গবেষণার মাধ্যমে।
• উন্নয়ন: যে জাতি গবেষণায় যত বেশি বিনিয়োগ করে, বিশ্বে তাদের নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক অবস্থান তত বেশি শক্তিশালী হয়।
এদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক
[ শিক্ষা ] ➔ (দুয়ার খুলে দেয়) ➔ [ জ্ঞান ]
▲ │ │ ▼
(উন্নতি ঘটায়) ◄── [ গবেষণা ] ◄── (নতুন পথ দেখায়)
• শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান অর্জনের পথ দেখায়।
• অর্জিত জ্ঞান মানুষকে নতুন কিছু জানার জন্য কৌতুহলী করে তোলে, যা গবেষণার জন্ম দেয়।
• গবেষণালব্ধ ফলাফল আবার মানুষের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করে।
সুস্থতা কার্যক্রম
শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখতে নিয়মিত কিছু সহজ কার্যক্রম বা অভ্যাস অনুসরণ করা অত্যন্ত কার্যকর।
শারীরিক সুস্থতার কার্যক্রম
• নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট বা সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন। যেমন—হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো।
• সুষম খাবার: পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শক্তি জোগায়।
• পর্যাপ্ত ঘুম: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা গভীর ও মানসম্মত ঘুম জরুরি।
• স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম: দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে মাঝে মাঝে পেশির নমনীয়তা বাড়াতে হালকা স্ট্রেচ করুন।
মানসিক শান্তির কার্যক্রম
• মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন: প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা ধ্যান মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
• ডিজিটাল আসক্তি কমানো: দিনে নির্দিষ্ট সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা মোবাইল স্ক্রিন ব্যবহারের সময়সীমা সীমিত রাখুন।
• শখ বা পছন্দের কাজ: সপ্তাহে অন্তত কিছু সময় নিজের পছন্দের আনন্দদায়ক কাজে (যেমন—গাছ লাগানো, বই পড়া বা ছবি আঁকা) ব্যয় করুন।
• সামাজিক সংযোগ: পরিবার ও বন্ধুদের সাথে অর্থপূর্ণ সময় কাটান এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন।
পরিবার ও সম্পর্কের উন্নয়ন
শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সমাধান।
সমাজকল্যাণে কাজ করা হলো কোনো স্বার্থ ছাড়া সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছায় অবদান রাখা। এটি মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ।
সমাজকল্যাণমূলক কাজের মূল ক্ষেত্র এবং তা বাস্তবায়নের উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রধান ক্ষেত্রসমূহ (Core Areas)
• শিক্ষা বিস্তার: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নৈশকালীন স্কুল খোলা, বিনামূল্যে বই-খাতা বিতরণ বা অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
• স্বাস্থ্যসেবা: প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা, রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ।
• দারিদ্র্য বিমোচন: দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন, রিকশা বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দিয়ে সাহায্য করা।
• দুর্যোগ মোকাবেলা: বন্যা, ঝড় বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত শুকনো খাবার, বস্ত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।
• পরিবেশ রক্ষা: বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা, প্লাস্টিক বর্জন এবং নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
২. সমাজকল্যাণে অংশ নেওয়ার উপায়
• ব্যক্তিগত উদ্যোগ: নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আশেপাশের কোনো অভাবী মানুষকে সাহায্য করা বা কাউকে শিক্ষিত করে তোলা।
• স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (NGO/Club): বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন বা ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে দলগতভাবে কাজ করা।
• অর্থনৈতিক সহায়তা: নিজে সরাসরি মাঠে কাজ করতে না পারলে বিশ্বস্ত কোনো সামাজিক ফান্ড বা তহবিলে আর্থিক অনুদান দেওয়া।
সমাজকল্যাণের সুফল
• বৈষম্য হ্রাস: সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমে আসে।
• অপরাধ প্রবণতা রোধ: বেকারত্ব দূর হলে এবং সুবিধাবঞ্চিতরা মৌলিক অধিকার পেলে সমাজে অপরাধ কমে যায়।
• মানসিক শান্তি: অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে আত্মতৃপ্তি ও মানসিক শান্তি লাভ করা যায়।
খান জাহান আলী (১৩৬৯ – ২৫ অক্টোবর ১৪৫৯) ছিলেন একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের স্থানীয় শাসক। তার অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে উলুঘ খান, খান-ই-আজম ইত্যাদি।
জীবনী
হযরত উলুঘ খানজাহান আলি ১৩৬৯ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আকবর খাঁ এবং মাতার নাম আম্বিয়া বিবি। ধারণা করা হয় যে তার পূর্বপুরুষগণ তুর্কি জাতিভুক্ত ছিলেন। খানজাহান আলির প্রাথমিক শিক্ষা তার পিতার কাছে শুরু হলেও তিনি তার মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন দিল্লিস্থ বিখ্যাত অলিয়ে কামিল পীর শাহ নেয়ামত উল্লাহর কাছে। তিনি কুরআন, হাদিস, সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্রের উপর গভীর জ্ঞানার্জন করেন।
ইসলাম প্রচার
খানজাহান আলি ১৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীতে সেনাপতির পদে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর জন্য তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান সেনাপতির পদে উন্নীত হন। ১৩৯৪ খ্রিষ্টাব্দে, মাত্র ২৬/২৭ বছর বয়সে, তিনি জৈনপুর প্রদেশের জাবিতান (গভর্নর) পদে অধিষ্ঠিত হন। পরবর্তীকালে, সুলতান খানজাহানের নেতৃত্বে একটি বিশাল সেনাদল নিয়ে তিনি বাংলা আক্রমণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ৬০,০০০ প্রশিক্ষিত অগ্রবর্তী সৈন্য এবং আরও দুই লক্ষ সৈন্যের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এই আক্রমণের ফলে রাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুরিয়াতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
১৪১৮ খ্রিষ্টাব্দে খানজাহান যশোরের বারবাজারে অবস্থান করেন এবং বাংলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসার শুরু করেন। সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ত পানির পরিবর্তে মিঠা পানির ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে তিনি সৈন্যবাহিনী এবং স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে প্রায় ৩৬০টি দিঘি খনন করেন। এই প্রচেষ্টায় তিনি স্থানীয়দের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এবং ঐ অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করেন।
পরিবার
খানজাহানের প্রথম স্ত্রীর নাম সোনা বিবি। কথিত আছে সোনা বিবি ছিলেন খানজাহানের পির নুর-কুতুবুল আলমের একমাত্র কন্যা। খানজাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী রূপা বিবি ওরফে বিবি বেগনি ধর্মান্তরিত মুসলমান ছিলেন। খানজাহান আলি তার দুই স্ত্রীর নাম অনুসারে সোনা মসজিদ এবং বিবি বেগনি মসজিদ নামে মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে এই দুই স্ত্রীর নাম লোকমুখে প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। কারণ খান জাহান আলী ইসলামি সংস্কৃতির একজন পৃষ্ঠপোষক ও আরবি ফারসি শাস্ত্রে শিক্ষিত একজন মুসলিম সাধু ছিলেন। “সোনাবিবি ও রূপাবিবি” এ ধরনের নামকে অযৌক্তিক মনে করা হয়।
ওফাত
হযরত খানজাহান আলি অক্টোবর ২৫, ১৪৫৯ তারিখে (মাজারশরিফের শিলালিপি অনুযায়ী ৮৬৩ হিজরি ২৬শে জিলহাজ) ষাট গম্বুজ মসজিদের দরবার গৃহে এশার নামাজরত অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
মানবতা এবং সততা হলো মানুষের জীবনের দুটি সবচেয়ে মূল্যবান ও মহৎ গুণ, যা সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখে।
সততা কী?
• সত্যবাদিতা: সর্বদা সত্য কথা বলা এবং মিথ্যা বা প্রতারণা থেকে দূরে থাকা।
• দায়িত্ববোধ: নিজের কাজে সৎ থাকা, অন্যের হক নষ্ট না করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা।
• মর্যাদা: সৎ মানুষ সমাজে সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পায়।
মানবতা কী?
• সহমর্মিতা: অন্য মানুষের কষ্ট ও ব্যথা অনুভব করা এবং তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা।
• ভালোবাসা: জাত-পাত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দয়া দেখানো।
• সেবা: নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণ করা মানবতার মূল মন্ত্র।
মানবতা ও সততার সম্পর্ক
• সততা মানুষকে ভেতর থেকে পবিত্র করে, আর মানবতা সেই পবিত্রতাকে অন্যের কল্যাণে প্রকাশ করে।
• একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গঠনে এই দুটি গুণের চর্চা অপরিহার্য।
যিকিরেই শেফা, যিকিরেই মুক্তি
যিকির হাউস
Zikir House Foundation